DOIRGHO
Sarat Chandra Chattopadhyay

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

Sarat Chandra Chattopadhyay

1876 – 1938

1work
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৭৬–১৯৩৮) বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক এবং ঔপন্যাসিক, যাকে তাঁর অসাধারণ লেখনীর জন্য 'অমর কথাশিল্পী' বলা হয়। তিনি সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ, বিশেষ করে গ্রামবাংলার সমাজব্যবস্থা এবং নারী মনের গভীর অনুভূতিগুলোকে অত্যন্ত সহজ ও সাবলীল ভাষায় ফুটিয়ে তুলেছেন। সংক্ষিপ্ত জীবন পরিচিতি জন্ম: ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার দেবানন্দপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতামাতা: তাঁর পিতার নাম মতিলাল চট্টোপাধ্যায় এবং মাতার নাম ভুবনমোহিনী দেবী। শৈশব ও শিক্ষা: তাঁর শৈশব কাটে চরম দারিদ্র্যের মধ্যে। ভাগলপুরে মাতুলালয়ে তাঁর শিক্ষার বড় অংশ অতিবাহিত হয়। তিনি ১৮৯৪ সালে এন্ট্রান্স পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে কলেজে ভর্তি হলেও আর্থিক অনটনের কারণে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেননি। কর্মজীবন: ভাগ্যান্বেষণে তিনি বার্মায় (বর্তমান মায়ানমার) গিয়েছিলেন এবং সেখানে দীর্ঘদিন অবস্থান করেন। তাঁর সাহিত্যের একটি বড় অংশ এই প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে সমৃদ্ধ হয়েছে। মৃত্যু: ১৯৩৮ সালের ১৬ জানুয়ারি কলকাতায় এই মহান লেখকের মৃত্যু হয়। উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম শরৎচন্দ্র মূলত তাঁর উপন্যাস এবং ছোটগল্পের জন্য বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। তাঁর অনেক কাজ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে এবং অসংখ্যবার চলচ্চিত্রে রূপায়িত হয়েছে। উপন্যাস: 'বড়দিদি' (প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস, ১৯০৭), 'দেবদাস', 'চরিত্রহীন', 'শ্রীকান্ত' (চার খণ্ডে সমাপ্ত), 'গৃহদাহ', 'দত্তা', 'পথের দাবী' এবং 'শেষ প্রশ্ন'। গল্প: 'রামের সুমতি', 'বিন্দুর ছেলে', 'মহেশ', 'অভাগীর স্বর্গ' এবং 'মেজদিদি'। সাহিত্যের বৈশিষ্ট্য ও অবদান সমাজ চেতনা: তিনি তৎকালীন হিন্দু সমাজের রক্ষণশীলতা, কুসংস্কার এবং জাতিভেদের বিরুদ্ধে কলম ধরেছিলেন। নারী চরিত্র: শরৎচন্দ্রের উপন্যাসে নারীদের ব্যক্তিত্ব এবং তাদের মনের সূক্ষ্ম অনুভূতিগুলো অত্যন্ত নিপুণভাবে চিত্রিত হয়েছে। জনপ্রিয়তা: সহজ ভাষা এবং মানুষের আবেগের সঙ্গে নিবিড় সংযোগের কারণে তিনি সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ জনপ্রিয় লেখকের মর্যাদা পেয়েছেন।